হাওজা নিউজ এজেন্সি: ‘শহীদ’-এর চিন্তাধারার আলোকে তৈরি এই শিক্ষাদর্শে শিশুর বেড়ে ওঠাকে তিনটি প্রধান দিক থেকে দেখা হয়েছে—চিন্তা, মন ও জীবনযাপন। এখানে শুধু মুখস্থ করে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়নি; বরং শিশুকে যুক্তি দিয়ে চিন্তা করতে শেখানো এবং ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে ভালোবাসা ও আন্তরিকতার সম্পর্ক তৈরি করাকে তার মানসিক শান্তি ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।
শিশুর বেড়ে ওঠার প্রধান তিনটি দিক হলো—
• চিন্তার বিকাশ
• মন ও অনুভূতির বিকাশ
• আচরণ ও জীবনযাপনের বিকাশ
অর্থাৎ, শিশুর শুধু বুদ্ধির বিকাশ হলেই হবে না; তার চিন্তা, মন, অনুভূতি, আচরণ ও জীবনযাপন—সবকিছুরই সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ প্রয়োজন।
ধর্ম ও বিশ্বাসের শিক্ষা
শিশুর বেড়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ধর্ম ও বিশ্বাসের শিক্ষা। এর অর্থ হলো, ছোটবেলা থেকেই শিশুকে ধীরে ধীরে আল্লাহ, ঈমান, ইবাদত এবং ইসলামী জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত করে তোলা।
ঈমান শিশুকে মানসিক শান্তি, নিরাপত্তাবোধ ও দৃঢ় ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। ধর্মীয় বিশ্বাস ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিশুদের গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ সমাজও আরও নৈতিক, সুস্থ ও কল্যাণমুখী হতে পারে।
চিন্তা ও জ্ঞান অর্জনের শিক্ষা
শিশুর শিক্ষার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সঠিকভাবে চিন্তা করতে ও জানতে শেখানো। শিশুকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে প্রশ্ন করতে ভয় না পায়, কৌতূহলী হয়, কোনো বিষয়কে শুধু বাইরে থেকে দেখে সিদ্ধান্ত না নেয় এবং যুক্তি ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিষয়টি ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করে।
এখানে লক্ষ্য শুধু বইয়ের বিষয় মুখস্থ করানো নয়। বরং শিশুকে এমন একজন মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা, যে চিন্তা করতে পারে, প্রশ্ন করতে পারে, অনুসন্ধান করতে পারে এবং কোনো বিষয় গভীরভাবে বুঝতে চেষ্টা করে।
ভালো চরিত্র গড়ে তোলার শিক্ষা
শিশুর চরিত্র গঠনে নৈতিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক। ধৈর্য, ভালো ব্যবহার, সাহস, আশা, অন্যের উপকার করার মানসিকতা এবং ইতিবাচকভাবে চিন্তা করার মতো গুণগুলো শিশুর মধ্যে ছোটবেলা থেকেই গড়ে তোলা প্রয়োজন।
এসব গুণ তাকে একজন সুস্থ, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।
মন ও অনুভূতির যত্ন
শিশুর বুদ্ধির বিকাশের পাশাপাশি তার মন ও অনুভূতিরও যত্ন নিতে হবে। শিশুকে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তির পরিবেশ দিতে হবে। কারণ মানুষের অনেক ভালো আচরণের উৎস তার মন ও অনুভূতি।
শিশুর মন যখন কোনো ভালো মূল্যবোধের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেই শিক্ষা তার ওপর আরও গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলে।
আচরণ ও জীবনযাপন শেখানো
শিশুকে শুধু ভালো কথা শেখালেই হবে না; সেগুলো কাজের মধ্যেও প্রকাশ করতে শেখাতে হবে। তাকে শিষ্টাচার, অন্যকে সম্মান করা, নিজের দায়িত্ব পালন করা এবং সুশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপন করতে শেখাতে হবে।
অর্থাৎ, শিশুর আচরণে যেন নৈতিকতা, মানবিকতা ও ভালো মূল্যবোধের প্রকাশ ঘটে—এ বিষয়টিও তার শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ
শিশুর সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতাও গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে আত্মমর্যাদাবোধ, ইরানি ও ইসলামী পরিচয়, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা এবং প্রতিকূলতার মোকাবিলা করার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিশুকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে সে নিজের সামর্থ্য ও সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সবসময় অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়। একই সঙ্গে নিজের সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধও তার মধ্যে তৈরি হতে হবে।
আত্মবিশ্বাস, নিজের ওপর নির্ভর করার ক্ষমতা, স্বাধীনভাবে চিন্তা করার অভ্যাস এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ—এসব গুণের ভিত্তি শৈশবেই তৈরি হয়।
সূত্র: ‘শহীদের চিন্তাধারায় শিশুর লালন-পালন’ গ্রন্থ
আপনার কমেন্ট